Web Development

ডোমেইন কি? ডোমেইন কত প্রকার ও কি কি?

ডোমেইন কি?(what is domain name in bangla) – ইন্টারনেট ব্যবহার করেন কিন্তু ডোমেইন ও হোস্টিং এই শব্দ গুলো শুনেন নি এমন মানুষ খুব কম পাওয়া যাবে। বিশেষ করে যারা একটি ব্লগ ওয়েবসাইট অথবা নিজের বিজনেস কি ইন্টারনেটভিত্তিক করতে চাচ্ছেন তারা এই শব্দ গুলো বেশি শুনে থাকেন। আপনি যদি একটি ওয়েবসাইট তৈরী করতে চান তাহলে অবশ্যই দুটি বিষয় নিয়ে জ্ঞান থাকা আবশ্যক ডোমেইন নেম কি এবং হোস্টিং কি। এই দুটির মধ্যে আজকে এই আর্টিকেলে আমরা ডোমেইন নিয়ে আলোচনা করবো। ডোমেইন নেম কি? , ডোমেইন কত প্রকার ও কি কি? বিস্তারিত নিচে পড়ুন।

ডোমেইন কি?(What is Domain)

ডোমেইন বা ডোমেইন নেম বলতে, সাধারণত কোন একটি ওয়েবসাইটের নামকে বুঝানো হয়ে থাকে। যদি বলা হয় ডোমেইন কাকে বলে? তাহলে আমরা বলতে পারি  “কোন ওয়েবসাইটের নামকে ডোমেইন বলা হয়ে থাকে”। যেমনঃ Google.com, facebook.com, twitter.com ইত্যাদি। ডোমেইন নাম কি আরো ভালো ভাবে বুঝার জন্য নিচে বাস্তব উদাহরণ দিয়ে বুঝানো হলো।

একটি বাড়ি তৈরি করার জন্য আমাদের প্রথম যে জিনিসটার প্রয়োজন পড়ে সেটি হলো জায়গা বা জমি। ঠিক তেমন একটি ওয়েবসাইট তৈরী করার জন্য প্রয়োজন পড়ে জায়গার আর সেই জায়গার নাম ওয়েবসাইটের ভাষায় হলো ওয়েব হোস্টিং। এখন যদি আমাদের বাড়িতে কেউ আসতে চাই তখন আমরা কি বলি? যে এই ঠিকানাই আমার বাড়ি আর যে এই ঠিকানা জানে সহজেই আপনার আমার বাড়িতে আসতে পারবে। এই ওয়েব দুনিয়ায় ডোমেইন নাম হলো ওয়েবসাইটের একধরনের ঠিকানা যা ইন্টারনেটের কোটি কোটি ওয়েবসাইটের মধ্যে আপনি যে ওয়েবসাইটটি চাচ্ছেন সেটি খুঁজে এনে দিতে সহায়তা করে থাকে।

ডোমেইন কি আরো ভালোভাবে জানার জন্য ওয়েব হোস্টিং কি এবং কিভাবে কাজ করে জানলে সুবিধা হয়। এই আর্টিকেলে শেষে আমি আরেকটি আর্টিকেল লিখবো যেখানে হোস্টিং সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করবো এবং লিংক এইখানে যুক্ত করে দিবো। ততোক্ষণে একটু বলে রাখি ওয়েবসাইট রাখার যে জায়গা সেটা আসলে একটি বিশেষ ধরনের কম্পিউটার যাকে সার্ভার কম্পিউটার বলে। ইন্টারনেটে এমন অনেক সাইট রয়েছে যা সার্ভারে জমা থাকে এই গুলোর মধ্য আপনি যে সাইটটি চাচ্ছেন সেটি আপনাকে এনে দিতে সাহায্য করে ডোমেইন।

আবার যদি সহজ ভাবে বলি ডোমেইন নাম কি? তাহলে – যেকোন ওয়েবসাইটের নাম কে ডোমেইন বলা হয়ে থাকে। আর এই ডোমেইন একটি ক্লায়ন্ট কম্পিউটার অর্থাৎ আপনার কম্পিউটার কে সার্ভার কম্পিউটার মানে আপনি যে ওয়েবসাইট টি ভিজিট করতে চাচ্ছেন সেটির সাথে যুক্ত হতে সাহায্য করে। এবং ডোমেইন সম্পর্কিত সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে ডিএনএস (DNS Full Form – Domain Name System)  ডোমেইন নেম সিস্টেম।

DNS কি? ডোমেইন কেন ব্যবহার করা হয়?

আমরা উপরের আলোচনা থেকে ইতিমধ্যে জানতে পেরেছি ওয়েব হোস্টিং সার্ভার হলো একটি বিশেষ কম্পিউটার যা ইন্টারনেটের সাথে ২৪ ঘন্টা যুক্ত তাকে এবং আমাদের নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে দেয়। আমাদের বাড়ির যেমন আলাদা আলাদা ঠিকানা রয়েছে ঠিক তেমনি ওয়েবসাইটেরও রয়েছে দুনিয়া অনেক সার্ভার কম্পিউটার রয়েছে এই সব গুলোর ঠিকানা ও আলাদা। অর্থাৎ ইন্টারনেটের সাথে সংযুক্ত সকল ডিভাইসে একটি করে ইউনিক IP Address(Internet Protocol Address) থাকে। যা ইন্টারনেটের যুক্ত সকল ডিভাইসকে আলাদা ভাবে চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

আর একটি ওয়েবসাইট যেহেতু একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসার্ভারে থাকে সেইখান থেকে আমাদের কে দেখানোর জন্য আমাদের ওয়েবসাইটেরও একটি আইপি এড্রেস থাকে। এক সময় ইন্টারনেটে থাকা ওয়েবসাইট গুলো তে প্রবেশ করার জন্য IP Address টাইপ করে প্রবেশ করতে দেখা দিতো। কিন্তু এটা মুখস্ত রাখা এবং বার বার ভিজিট করার ক্ষেত্রে অনেক সমস্যা ছিল তখন উদ্ভব হয় ডোমেইন বা Domain Name System এর। আপনি একটি বার চিন্তা করুন একটি ওয়েবসাইটে প্রবেশ করতে আপনাকে 142.250.67.46 এই রকম একটি আইপি টাইপ করে প্রবেশ করতে হবে। তখন ব্যাপার টা কেমন বিরক্তকর ও কষ্টের হবে? এই জন্য তৈরী ডোমেইন নেম।

এছাড়া আগে কোন ওয়েবসাইট প্রবেশ করার জন্য আইপি এড্রেস লিখে প্রবেশ করা লাগতো। যেমন আপনি Google.com এই 142.250.67.46 এড্রেস দিয়ে ভিজিট করতে পারবেন। ডোমেইন বা আইপি এড্রেস যেটি দিয়ে সাইট ভিজিট করার চেষ্টা করেন না কেন আপনি গুগলকেই পাবেন।

এখন আসি DNS এর কাজ কি? ডোমেইন নেম সিস্টেম আসার পর একটি নির্দিষ্ট ওয়েবসাইট কে অ্যাক্সেস করার জন্য নির্দিষ্ট নাম দেওয়া হলো। এবং এই নামের অভ্যন্তরে একটি করে আইপি এড্রেস সেট করার সিস্টেম হলো যেটি হলো সার্ভার আইপি। আমরা যখন কোন ওয়েবসাইটে প্রবেশ করার জন্য ব্রাউজারে কোন কিছু টাইপ করি, যেমন Google.com তখন এটি ডোমেইন নেম সার্ভারের কাছে চলে যায় আর চেক করে এই ডোমেইনটি কোন আইপির জন্য সেট করা তারপর সেটি সেই আইপি কে রিটার্ন করে এবং ব্রাউজার তখন ঐ আইপি নিয়ে গিয়ে নির্দিষ্টি ওয়েবসাইটটি দেখিয়ে দেয়।

সহজ ভাষায় বলতে গেলে, DNS হলো আমাদের ফোন বুকের মতো যেখানে অনেক গুলো ব্যক্তির নাম আছে আর সেই নামারে আন্ডারে ফোন নাম্বার আছে যখন যে নামের ব্যক্তিকে কল দিতে চাই তখন সেই নামের ব্যক্তির মোবাইল নাম্বারে কল করে যায়। এইখানে ফোনবুক টা হলো DNS সার্ভার আর মোবাইল নাম্বার হলো IP অ্যাড্রেস হিসাবে বিবেচনা করতে পারেন।

ডোমেইন কত প্রকার ও কি কি?

ডোমেইন নেম সিস্টেম শুরু হওয়ার দিকে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট ধরনের ডোমেইন নির্ধারণ করা হতো। কিন্তু বর্তমান সময়ে ডোমেইন নেম ব্যবহারে তেমন বাধ্যকতা নিয়ে কিছু ডোমেইন ছাড়া। ডোমেইন কয়েকটি প্রকারভেদ রয়েছে যার মধ্য অন্যতম গুলো নিয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো। তার আগে জানা যাক TLD(Top Level Domain) কি?

টপ লেভেলে ডোমেইন কি?(What is top level domain)

টপ লেভেলে ডোমেইন(Top Level Domain) বা TLD বলতে বোঝায়, একটি ওয়েবসাইটের নামের ডট(.dot) এর পরের অংশকে। যেমন গুগলের ডোমেইন Google.com এর Google এর পর অংশ  .com হলো টপ লেভেল ডোমেইন সংক্ষেপে টিএলডি। অনেক সময় এটিকে ডোমেইন এক্সটেনশন বা ডোমেইন Suffix ও বলা হয়ে থাকে।

Top Level Domain বলতে সাধারণত ডিএনএস সার্ভারে উপরে বা বেশি ভ্যালু পাওয়া ডোমেইন গুলো বুঝানো হয়ে থাকে। টপ লেভেল ডোমেইনের আবার প্রকার ভেদ রয়েছে।

জনপ্রিয় টিএলডি (Most Popular TDLs)

.com – commercial business (the most common TLD)
.me – for personal website(people use for portfolio website)
.org
– organizations (typically, nonprofit)
.gov – government agencies
.edu – educational institutions
.net – network organizations
.mil – military

টপ লেভেল ডোমেইন প্রকারভেদ (There are 5 official types of TLDs)

মার্কেটে অনেক ধরনের টপ লেভেল ডোমেইন রয়েছে এইগুলো ওয়েবসাইট বা কোম্পানির উপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ভাবে ভাগ করা হয়ে থাকে।

  1. Generic Top-level Domains (gTLD)
  2. Sponsored Top-level Domains (sTLD)
  3. Country Code Top-level Domains (ccTLD)
  4. Infrastructure Top-Level Domain (ARPA)
  5. Test Top-Level Domains (tTLD)

কোন গুলো কি কাজে ব্যবহার করা হয় তার একটা সংক্ষিপ্ত ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হলোঃ

1. Generic Top-level Domains (gTLD): যেসব ডোমেইন সাধারণ কাজ কর্মে ব্যবহার করা হয় সেই সকল ডোমেইন কে Generic Top Level Domain বা gTLD বলা হয়ে থাকে। এক সময় ডোমেইন গুলো রেজিস্ট্রেশন করতে একটু বাধা ছিল কারণ ডোমেইন গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য খাপ খাওয়ানোর যে চাইলে যে কেউ যেকোন ডোমেইন নিতে পারতো না। কিন্তু এখন .com, .info, .me, .org, .biz ইত্যাদি কোন বাধা ছাড়া রেজিস্ট্রেশন করা যায়।

.com – ডট কম ডোমেইন দিয়ে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বা এই ধরনের কাজ-কর্ম করে এমন প্রতিষ্ঠান ব্যবহার করতো। কিন্তু এখন এটি সাধারণ যেকোন উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। ডট কম সব চেয়ে বেশি ব্যবহৃত ডোমেইন অনেকেই। ডট কম মানেই বুঝে ওয়েবসাইট ডট কমের বাইরে অন্য কোন এক্সটেনশন দেখলে ভিজিট করতে ভয় করতো অনেকেই। কিন্তু সময়ের সাথে ডট কমের বাইরে অন্য ডোমেইন এর সাথে মানুষ পরিচিত হওয়া শুরু করছে। তবুও যারা একটি নতুন ব্লগ বা ওয়েবসাইট তৈরী করতে হয় যায় তারা ডট কম ডোমেইন বেশি পছন্দ করে।

.net – ডট নেট ডোমেইন দ্বারা নেটওয়ার্ক টাইপের কোন প্রতিষ্ঠানকে বোঝানো হয়ে থাকে।  ইন্টারনেট ভিত্তিক কোন সেবার ক্ষেত্রে এই ডোমেইনটি ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে একটি ব্লগ সাইট বা আপনার ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য ব্যবহার করতে পারেন।

.org – ডট ওআরজি ডোমেইন দ্বারা অলাভ জনক(Unprofitable  Organization) কে বোঝানো হয়ে থাকে। যেসব সংস্থা অলাভন জনক যেমন মানুষের কল্যাণে সেবার প্রদান করে থাকে। কোন অর্থের লেনদেন থাকে না সেই সব সংস্থা গুলো এই ডোমেইন ব্যবহার করা থাকে। আপনারও যদি এমন কোন সংস্থা থাকে এই ডোমেইন ব্যবহার করা উচিত।

.edu – ডট ইডু ডোমেইন এর অর্থ হলো Education যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে তারা তাদের ওয়েবসাইটের জন্য Dot Edu ডোমেইন ব্যবহার করতে পারে।

.gov – সরকারি ওয়েবসাইট গুলো dot gov ডোমেইন ব্যবহার করে থেকে এর পূর্ণরুপ হলো Government. আমরা যেসব সরকারি ওয়েবসাইট যেগুল বিভিন্ন সেবা প্রদান করে থাকে সেই গুলো ওয়েবসাইটের নামের দিকে খেয়াল করলে দেখবো শেষে .gov.bd লেখা। যদি আমাদের দেশের হয় তাহলে .gov.bd থাকে আর অন্য দেশের অন্য অন্য এক্সটেনশন। থাকে এটি নিয়ে নিচে আলোচনা করা হবে।

.info – ইনফরমেশন প্রোভাইড করে এমন জাতীয় ওয়েবসাইট Dot Info ডোমেইন ব্যবহার করতে পারে। যেমন আপনি আপনার ব্লগ সাইট একটি তথ্য সরবরাহকারী সাইট হলে সেটির জন্য ডট ইনফো ডোমেইন নিতে পারেন।

.biz – ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের জন্য dot biz ডোমেইন।

2. Sponsored Top-level Domains (sTLD): স্পন্সরড টপ-লেভেল ডোমেইন (sTLD) হল ইন্টারনেট অ্যাসাইনড নম্বর অথরিটি (IANA) দ্বারা রক্ষণাবেক্ষণ করা ডোমেন নেম সিস্টেম (DNS)-এর Top Level ডোমেইন (TLD) গুলোর একটি বিশেষ বিভাগ। sTLD হলো বিশেষ ধরনের ডোমেইন যে গুলো একটি বিশেষ স্পনসর থাকে যা একটা নির্দিষ্টি কমিনিউটিকে নির্দেশ করে থাকে। যেমন .asia ডোমেইন টা এশিয়ান সংস্থা কে নির্দেশ করে থাকে।

3. Country Code Top-level Domains (ccTLD): যেসব ডোমেইন এক্সটেনশন গুলো দেশের কোড নাম দ্বারা তৈরী সেই সব ডোমেইন কে Country Code Top-Level Domain বা ccTLD ডোমেইন বলা হয়ে থাকে। যেমন knockknock.com.bd এই ডোমেইনটি কে ভালোভাবে খেয়াল করলে দেখবো মূল ডোমেইনের সাথে .bd লেখা আছে এই ডোমেইন গুলো দেশের কোড ওয়ার্ড দিয়ে শেষ হয়। অর্থাৎ কোন ডোমেইন যদি দেশকে টার্গেট করে তাদের ccTLD ডোমেইন বলে।

.bd – Bangladesh
.pk – Pakistan
.us – United States

যেমন আমরা যখন google.com.bd তে ভিজিট করি তখন দেখবেন রিডাইরেক্ট করে google.com.bd তে নিয়ে যায়। এই রকম যারা আমেরিকার তাদের google.com.us এ রিডাইরেক্ট করে নিয়ে যায়। তাহলে এই থেকে কি বুঝতে পারলেন? যদি কোন ডোমেইনের শেষ কোন দেশের Country Code থাকে তার মানে এটি হলো ঐ দেশের ওয়েবসাইট। https://surokkha.gov.bd করোনার টিকা দেওয়ার রেজিস্ট্রেশনের ওয়েবসাইট খেয়াল করলে আমরা দুটি জিনিস জানতে পারবো একটি হলো .gov দ্বারা সরকারি ওয়েবাইট আর .bd দ্বারা বাংলাদেশের।

4. Infrastructure Top-Level Domain (ARPA): এই বিভাগে শুধু একটি ডোমেইন রয়েছে সেটি হলো .arpa । এটি Internet Assigned Numbers Authority(IANA) দ্বারা পরিচালিত হয়। .arpa ডোমেন এক্সটেনশন ইন্টারনেট আর্কিটেকচার বোর্ড (IAB) এর নির্দেশনায় IANA দ্বারা সরাসরি Internet Engineering Task Force (IETF) এর দ্বারা পরিচালিত হয় এবং শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়।

5.Test Top-Level Domains (tTLD):  টেস্ট টপ লেভেলে ডোমেইন গুলো ডকুমেন্টেশন ও লোকাল টেস্টিং এর কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এইগুলো DNS এর রুট জোনে ইনস্টল করা যায় না অর্থাৎ ইন্টারনেট দ্বারা অ্যাক্সেস করার জন্য না। যেমন কম্পিউটাকে লোকাল হোস্ট বানালে ঐ সফটওয়ার গুলোর জন্য আমরা .localhost বা .test ডোমেইন দ্বারা নিজেদের সাইট গুলো চেক করতে পারি।

টেস্ট টপ লেভে ডোমেইন(Test Top-Level Domains): 

  • .example – for place holding

  • .invalid – for invalid domain names

  • .localhost – for usage in local networks

  • .test – for testing purposes

উপরে আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম ডোমেইন কি? ডোমেইন কত প্রকার ও কি কি। এই বারে নিচে আরেকটি ডোমেইন নিয়ে আলোচনা করা হলো।

সাব ডোমেইন (What is Sub Domain)

যেসব ডোমেইনের মূল ডোমেইন নামের আগের অন্য কোন নাম থাক তাকে সেই ডোমেইন গুলো কে সাবডোমেইন বলা হয়ে থাকে। যেমনঃ work.biplophossain.com এই খানে আমার মূল ডোমেইন হলো biplophossain.me তার আগে work. রয়েছে এটি হলো সাব ডোমেইন। অর্থাৎ কোন নামের পর ডট দিয়ে মূল ডোমেইন থাকলে সেটি কে সাব ডোমেইন বলা হয়। এটি ভদ্র ভাবে Sub Level Domain বলা হয়ে থাকে এবং সংক্ষেপে SLD

সাব ডোমেইন বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সাধারণ নির্দিষ্ট কোন সেবা দেওয়ার জন্য একই ডোমেইন আন্ডারে একটি বিভাগের জন্য সাব ডোমেইন তৈরী করা হয়ে থাকে। যেমন ধরুন আপনার একটি বাংলা ব্লগ রয়েছে মূল ডোমেইনে এখন আপনি এই একই ডোমেইন আরেকটি ওয়েবসাইট তৈরি করতে চান যেটি হবে ইংরেজিতে তাহলে আপনি en.example.com নামে একটি সাবডোমেইন তৈরি করে সেটি তে ইংরেজি ব্লগিং শুরু করতে পারেন।

ডোমেইন কিভাবে কিনবো

ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন অর্থাৎ কেনার জন্য অনেক ডোমেইন রেজিস্ট্রার কোম্পানি রয়েছে যাদের থেকে আপনি ডোমেইন ক্রয় করতে পারেন। জনপ্রিয় কিছু ডোমেইন প্রোভাইডার কোম্পানি লিস্টঃ

  • Namecheap
  • Bluehost
  • HostGator
  • Godday
  • Name silo

এই গুলো ইন্টারনাশনাল ওয়েবসাইট তাই এদের থেকে ডোমেইন কিনতে আপনার ইন্টারন্যাশনাল পেমেন্ট মেথোড প্রয়োজন পড়বে যেমন মাস্টার কার্ড, ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড(ডুয়াল কারেন্সি সাপোর্টেড)। অথবা আপনি বাংলাদেশী ডোমেইন হোস্টিং প্রোভাইডার থেকে বিকাশ, রকেট, নগদ ইত্যাদি পেমেন্ট মেথোড দ্বারা ডোমেইন কিনতে পারেন।

ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করতে হয় কেন?

অনেকের প্রশ্ন হলো আমাদের ডোমেইন নেম রেজিস্ট্রেশন করতে হয় কেন? এটি বলার আগে বলি ডোমেইন রেজিস্ট্রেশন করা মানে হচ্ছে আপনার বা আপনার কোম্পানির জন্য ডোমেইন কিনছেন। আর রেজিস্ট্রেশন করতে হয় এই কারণ এটি ফ্রি না এই ডোমেইন গুলো পরিচালনার করতে একটা খরচ হয় সেই অ্যামাউন্ট নেয় IANA।

ডোমেইন নেম এ www থাকে না কেন?

বর্তমানে আমরা যেসব ওয়েবসাইট ভিজিট করি বেশির ভাগ ওয়েবসাইটে এখন www থাকে এর কারণ হলো ব্রাউজার দেখায় না আর আগের মতো www ই ব্যবহার করা হয় না। আগে www দ্বারা world wide web বুঝানো হচ্ছে আর আগে ওয়েবসাইট ভিজিট করার জন্য www লিখে তারপরেই ভিজিট করতো লোকজন। কিন্তু এখন তা আর প্রয়োজন পড়ে না আপনি চাইলে ডাইরেক্ট ডোমেইন নেম লিখেই ভিজিট করতে পারবেন।

ভালো ডোমেইন নির্বাচন করার টিপস

আপনার ব্লগ বা ওয়েবসাইটের জন্য ভালো একটি ডোমেইন রেজিস্ট্রার করার জন্য এই টিপস গুলো ফলো করতে পারেন।

  • যে নাম দিবেন সেটি হলো অর্থবোধক হয়।
  • দুটি শব্দের মধ্যে ডোমেইন নাম হলে ভালো হয় । অথবা একটি শব্দ দ্বারা যদি আপনার ক্ষেত্রে হয়ে যায় তাহলে আরো ভালো।
  • ডোমেইন বেশি লম্বা করবেন না বড় ডোমেইন মুখস্ত করতে সমস্যা হতে পারে। কোন ভাবে ভিজিটর আসলে পরবর্তী সেই ভিজিটর আবার ওয়েবসাইট ভিজিট করতে চাইলে তার যেন সহজে মাথায় আসে ডোমেইন নেম টা কি।
  • ডোমেইন নেম এর মাঝে হাইফেন ব্যবহারে বিপরীত থাকুন। চাইলে ব্যবহার করা যায় কিন্তু হাইফেন – ছাড়াই সুন্দর লাগে বেশি।
  • আপনার ব্লগের টপিকের উপর ভিত্তি করে নাম নির্বাচন করুন।

আশা করি এই, আর্টিকেল থেকে আপনি ডোমেইন নেম কি? কত প্রকার ও কি কি এই সব বিষয় গুলো সহজেই জানতে ও বুঝতে পেরেছেন। এই আর্টিকেল টি ভালো লাগলে অবশ্যই বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন। কোন ভুল ত্রুটি হলে সেটি কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করে জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করুন।

ধন্যবাদ

আরো পড়ুনঃ

ক্লাউডফ্লেয়ার কি? | কেন ব্যবহার করবেন? | সেটআপ পদ্ধতি।

দ্রুত কম্পিউটার টাইপিং শেখার নিয়ম | টাইপিং মাস্টার।

টু স্টেপ ভেরিফিকেশন কি? ফেসবুক ও জিমেইলে সেটআপ পদ্ধতি।

Visual Studio Code একটি শক্তিশালী কোড ইডিটর।

Facebook Comments Box

MD Biplop Hossain

আমি এক স্ব-ঘোষিত হাবলু যে প্রযুক্তিকে ভালোবাসে এবং সেটি নিয়ে শিখতে জানতে পছন্দ করে। এই ধারাবাহিকতায় হাবলু যা জানে ও শিখছে সেই সকল জিনিস গুলো নিয়ে লেখার মাধ্যমে আপনাদেরকে জানানোর চেষ্টা করে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button
error: Content is protected !!